• Home
  • Article Details

সহকর্মীর সঙ্গে বোঝাপড়া

Jul 23, 2018

Share on

Article image

মনের মতো একটা চাকরি খুঁজে পাওয়া তো সহজ কথা নয়। বহু চেষ্টায় নাহয় পেয়েই গেলেন পছন্দসই একটা চাকরি। কিন্তু অফিসের সহকর্মীটি যেন একেবারে বিধিবাম! একে তো নতুন এক জীবনে খাপ খাইয়ে নেওয়া, তার ওপর সঙ্গের কর্মীটির আচরণ যদি এমন হয় তাহলে পছন্দের চাকরিটাই হয়ে উঠতে পারে অপছন্দের।

রোজ অফিসে যাওয়াটাই যেন হয়ে ওঠে বিরক্তিময়। কিন্তু তাই বলে তো আর কাজ বাদ দিয়ে ঘরে বসে থাকা চলবে না; বরং বের করে নিতে হবে সমস্যার সমাধান।

নুসরাত জাহান—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির সাবেক এই কাউন্সেলর বর্তমানে কাজ করছেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইকো-সোশ্যাল কাউন্সেলর হিসেবে। তিনি বলেন, ‘আসলে সবার চিন্তাভাবনা এক রকম নয়। আমরা একেকজন বেড়েও উঠি একেক রকম পরিবেশে। তাই একটা কর্মস্থলে যখন বিভিন্ন মানসিকতার মানুষজন কাজ করতে আসে, তখন সবার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে কিছুটা বেগ পেতে হয়।’ আসলে অফিসের সহকর্মীর সঙ্গে ঝামেলাটা হতে পারে বিভিন্ন কারণে। এই সমস্যার সমাধান জানার জন্য আগে আপনাকে বুঝতে হবে যে আসলে সহকর্মীর সঙ্গে আপনার ঝামেলাটা কী নিয়ে। সহকর্মীর সঙ্গে দ্বন্দ্ব হতে পারে বিভিন্ন কারণে:

কাজের দক্ষতা সমান না হলে

অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায়, সহকর্মীটির সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটে কাজের দক্ষতা নিয়ে। হয়তো আপনার অধিক কর্মদক্ষতার জন্য আপনি বসের সুনজরে পড়ে গেলেন। কিন্তু আপনার সহকর্মীটি সে পর্যায়ে নেই। এর ফলে আপনাদের দীর্ঘদিনের ভালো সম্পর্কটাও ক্ষণস্থায়ী হয়ে উঠতে পারে।

অফিসের পদবি

একই ভাবে আপনার পদোন্নতি হওয়ার ফলেও কিন্তু সহকর্মীটির সঙ্গে দ্বন্দ্ব শুরু হতে পারে। এর জন্য দায়ী আমাদের মানসিকতা। ছোট্ট শিশুদের ক্ষেত্রেও দেখা যায়, মা-বাবা অপর শিশুটিকে অধিক স্নেহ করলে তারা রেগে যায়। আর এমনটাই ঘটে অফিসের সহকর্মীদের মাঝে।

ভিন্ন মানসিকতা

আর একেবারে প্রথমেই বলে নেওয়া হয়েছে ভিন্ন মানসিকতা নিয়ে। হয়তো আপনার পোশাকের ধরন, রুচি কিংবা আগ্রহের বিষয়টা মোটেও পছন্দ হচ্ছে না পাশের ডেস্কের সহকর্মীর। আবার আপনিও যেন কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না সহকর্মীর মতামত। ব্যস, একপর্যায়ে কথা-কাটাকাটি থেকে রাগারাগি।

এ ক্ষেত্রে করণীয়

সমস্যার উৎস তো জানলেন, এবার সমাধানে আসুন। নুসরাত জাহান যে বিষয়গুলো মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছেন—

  • হুট করেই এমন রেগে যাওয়া উচিত নয়। আপনি সহকর্মীটিকে বুঝিয়ে বলতে পারেন। যদি তিনি তারপরও এমন আচরণ করেন, তাহলে বিষয়টি এড়িয়ে চলাই ভালো।
  • দুজনের এই মনোমালিন্যের কথা অফিসের কোনো তৃতীয় পক্ষকে জানানো ঠিক নয়; বরং বিভিন্ন সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে, যা আপনার ক্যারিয়ারকেই নষ্ট করে দিতে পারে।
  • নিজেকেও নিয়ন্ত্রণ করুন। বোঝার চেষ্টা করুন যে আমরা সবাই একই রকম নই। আমাদের প্রত্যেকের মাঝে এমন দৃষ্টিকোণ তৈরি করতে পারলে কিন্তু সমস্যা মিটে যায়। অন্যকে ছাড় দিতে শিখুন।
  • যদি মনে করেন এ বিষয়ে আপনার সহকর্মীর সঙ্গে আলোচনা করলে সমাধান হবে, তাহলে তা-ই করুন। কেননা কোনো সমস্যার সমাধান কিন্তু চুপ করে থাকলে হয় না।
  •  খেয়াল রাখুন, অফিসের সবাই কিন্তু আপনার বন্ধু মহল নয়। একেক সহকর্মী একেক ধরনের আচরণ পছন্দ করতেই পারেন। তাই কার সঙ্গে কী রকম আচরণ করবেন সেটা বুঝতে শিখুন।

সূত্রঃ প্রথম আলো