• Home
  • Article Details

চাকরির সাক্ষাৎকার পর্বে যে কথা বলা উচিৎ নয়

Apr 16, 2017

Share on

Article image

পূর্বের প্রতিষ্ঠান, বস এবং সহকর্মী সম্পর্কে নেতিবাচক কথা:

অফিসের পরিবেশ ভাল ছিলনা বা বস অতিরিক্ত কাজের চাপ দিতেন যার জন্য আমি চাকরিটা ছেড়ে দিয়েছি এ ধরণের কথাগুলো নেতিবাচক মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ। তাই পূর্বের প্রতিষ্ঠান, সহকর্মী কিংবা বসের প্রতি কোন প্রকার অভিযোগ সাক্ষাতকারে উপস্থাপন করা যাবেনা। নিয়োগকর্তা সবসময়ই একজন ইতিবাচক মানসিকতার প্রার্থীকে নিয়োগ দিতে চান। কেউ যখন প্রাথমিক সাক্ষাতকারেই নেতিবাচক আলোচনা করেন তখন তার ব্যাপারে চাকরিদাতারও নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গী তৈরী হয়। ক্যারিয়ার বিশেষজ্ঞরা মনে করেন পূর্বের অফিস বা বসের সমালোচনা করা কর্মীদের অন্যান্য দিক চাকরিদাতার পছন্দ হলেও তারা এমন প্রার্থীদেরকে প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সুযোগ দিতে চায় না। অধিকাংশ নিয়োগকর্তাই এমন একজন প্রার্থী প্রত্যাশা করেন যে তার পূর্বের কোন বাজে পরিস্থিতি বা তেমন কোন পরিস্থিতির অভিজ্ঞতা বহন করছেন না। তাই যেকোন উপায়ে তা পরিহার করতে হবে।

পূর্বের চাকরিতে চ্যালেঞ্জ ছিলনা:

আমি অনেকগুলো চাকরি পরিবর্তন করেছি কারন সেগুলো আমার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিলনা কিংবা যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং ছিলনা। এধরনের বিবৃতি আপনাকে লক্ষ্যহীন ও পথভ্রষ্ট হিসেবে উপস্থাপন করবে। প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় সাক্ষাতকারগ্রহীতা চিন্তা করবেন, আপনি যে পদের জন্য সাক্ষাতকার দিতে এসেছেন সেটাই বা অন্যান্য চাকরি থেকে কিভাবে ব্যতিক্রম হতে পারে? আপনি হয়তো এখানেও র্দীর্ঘ্য সময় ধরে কাজ করবেন না। এ ধরনের উত্তর আরও কিছু প্রশ্নের জন্ম দেয় যেমন, বসের সাথে আপনার সম্পর্ক কেমন ছিল কিংবা আপনার ধারনাগুলো নিয়ে কিভাবে বসের সাথে যোগাযোগ করেছেন ইত্যাদি।

সকল কাজের কৃতিত্ব নিজেকে দেয়া:

ব্যবস্থাপক হিসেবে নিজের দায়িত্ব বর্ননা করার সময় সকল কাজের কৃতিত্ব নিজেকে দেয়া উচিত নয়। সহকর্মী ও তাদের মেধার মূল্যায়ন করুন । অধিকাংশ সফল দলনেতা মনে করেন সে তার দলের অন্যান্য কর্মীদের থেকে ব্যতিক্রম কিছু নন। এমন স্বীকারোক্তিই আপনাকে নিয়ে যাবে বহুদূর।

দু:খিত! আমি খুব বেশি সময়নিষ্ঠ নই:

সঠিক সময়ে কিংবা নির্ধারিত সময়ের পূর্বে কাজটি সম্পন্ন করার মাধ্যমেই একজন কর্মীর নিয়মানুবর্তীতা প্রকাশ পায়। কেউ যদি তা না করতে পারেন তবে প্রতিষ্ঠান কখনোই  তার উপর নির্ভর করতে চাইবেনা। তাই আপনাকে নিয়মানুবর্তী হতে হবে পাশাপাশি খেয়াল রাখতে হবে সময়ের প্রতিও। এমন কোন কথা বলা যাবে না বা উদাহরণ দেয়া যাবে না যাতে করে নিয়োগকর্তা আপনার সম্পর্কে নেতিবাচক ধরণা লাভ করতে পারে।

আমার দূর্বলতা আমি অতিরিক্ত পরিশ্রম করি:

সাক্ষাতকারে প্রার্থীর দূর্বল দিকগুলো কি সে বিষয়ে যখন প্রশ্ন করা হয় তখন তার উত্তরে অতিরিক্ত ইতিবাচক উত্তর দেয়া বুদ্ধিমানের কাজ নয়। এসব ক্ষেত্রে নম্রতা ও মানবিক সীমাবদ্ধতা বিবেচনা করে উত্তর দেয়া উচিত। প্রার্থীকে আত্নসচেতন হতে হবে এবং স্বাভাবিক চ্যালেঞ্জগুলো এমনভাবে উপস্থাপন করতে হবে যাতে নিয়োগকারীর নিকট কথাগুলো বাস্তবসন্মত মনে হয়।

ব্যক্তিগত/ পারিবারিক বিষয়ে অপ্রয়োজনীয় প্রশ্ন করা:

যিনি সাক্ষাৎকার গ্রহন করবেন কোনভাবেই তার ব্যক্তিগত/ পারিবারিক জীবন নিয়ে এমন কোন প্রশ্ন করা যাবে না বা কথা বলা যাবে না যার ফলে তিনি বিব্রত হতে পারেন ।

আমার কোন প্রশ্ন নেই:

যখন কোন প্রার্থীকে প্রশ্ন করার সুযোগ দেয়া হয় তখন অবশ্যই তা গ্রহন করা উচিৎ। যখন আপনি এমন সুযোগ গ্রহন করবেন না তখন নিয়োগকর্তা ভেবে নেবেন প্রতিষ্ঠানের প্রতি আপনার কোন আগ্রহ নেই কিংবা আপনি আপনার ক্যারিয়ার নিয়ে সচেতন নন।

Writer:
Profile Photo

ক্যারিয়ার বিষয়ক ওয়েবসাইট অবলম্বনে-

এস. এম. নুরুল মোসাব্বির মনি
কন্টেন্ট স্পেশালিষ্ট, চাকরি ডটকম