• Home
  • Article Details

কর্মক্ষেত্রে বন্ধুবেশী শত্রু থেকে সাবধান

Aug 2, 2018

Share on

Article image

কর্মক্ষেত্রে সহকর্মীদের সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করতে গিয়ে অনেক সময় কঠিন পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হয়। এমন অনেক সহকর্মী থাকেন যাঁরা ওপরে ওপরে বন্ধুসুলভ আচরণ করলেও, সুযোগ পেলেই আড়াল থেকে আপনাকে বিপদে ফেলতে পারেন। কর্মক্ষেত্রে বন্ধুবেশী এমন শত্রুদের নিয়ে সম্প্রতি একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে টাইমস অব ইন্ডিয়া।

বন্ধুবেশী শত্রুদের সঙ্গে কাজ করাটা সত্যিই অনেক বেশি কঠিন। একই দলে কাজ করার কারণে ইচ্ছে হলেও আপনি তাঁদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে পারেন না। আবার কর্মক্ষেত্রে কাজের পরিবেশ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় তাঁদের সঙ্গে উত্তপ্ত বিতর্কেও জড়াতে পারেন না। এমন অবস্থার মুখোমুখি হলে আপনাকে কিছু কৌশল অবলম্বন করতে হবে। আগে চিনতে হবে বন্ধুবেশী শত্রু কারা। তারপর আপনার কাজে কী ধরনের প্রতিবন্ধকতা তাঁরা সৃষ্টি করছেন, তার ওপর ভিত্তি করে সমাধানের পথে এগোতে হবে আপনাকে।

নিজের কাজ আপনার ওপর চাপিয়ে দিলে...

এ ধরনের সহকর্মীরা নানা প্রলোভন দেখিয়ে প্রায়ই নিজের কাজ আপনার ওপর চাপিয়ে দিয়ে ফায়দা লোটার চেষ্টা করবেন। এ ক্ষেত্রে আপনাকে আপনার নিজের দায়িত্ব আগে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করতে হবে। তারপর সময় পেলে ওই সহকর্মীর অনুরোধ আপনি রাখতে পারেন কিংবা সুকৌশলে এড়িয়ে যেতে পারেন।

আপনার ভাবনা চুরি করলে...

কোনো কাজ শুরুর সময় আলাপ-আলোচনা পর্বে আপনার ভাবনার কথা জেনে নিয়ে পরে তা নিজের বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করতে পারেন এসব বন্ধুবেশী শত্রুরা। এ ক্ষেত্রে প্রথমে ওই সহকর্মীর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করুন। তার পরও কাজ না হলে সরাসরি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবহিত করুন।

প্রশংসার আড়ালে আপনার জায়গা দখলের পাঁয়তারা করলে...

কর্মক্ষেত্রে নতুন যোগ দেওয়া আপনার অধস্তন কোনো সহকর্মী আপনার কাজ ও কাজের ধরন নিয়ে অতি উত্সাহ দেখাতে পারেন। আপনার কাজের ভূয়সী প্রশংসাও হয়তো শুনবেন তাঁর মুখ থেকে। কিন্তু প্রশংসার আড়ালে নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্য ছক কষে আপনাকে ডিঙিয়ে আপনার পদে নিজেকে বসানোর জন্য নানা ছলচাতুরির আশ্রয় নিতে পারেন তিনি। এ ক্ষেত্রে তাঁর প্রশংসাবাক্যে গা ভাসিয়ে দিলে বিপদে পড়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে আপনার। প্রয়োজনে আপনাকে রূঢ় হতে হবে। তাঁকে স্পষ্ট বুঝিয়ে দিতে হবে, কর্ম ক্ষেত্রে তাঁর এগিয়ে যাওয়া নির্ভর করছে আপনার মূল্যায়নের ওপর।

নিরাশার বীজ বুনে দিতে চাইলে...

এ ধরনের সহকর্মীরা প্রায়ই আপনার সঙ্গে আলাপচারিতার সময় প্রতিষ্ঠানের নানা বদনাম করবেন। আপনাকে বোঝানোর চেষ্টা করবেন, আপনার প্রতিষ্ঠানের মতো দুর্বিষহ কাজের পরিবেশ আর কোথাও নেই। এ ছাড়াও আরও নানা অভিযোগ ও সমস্যার কথা আপনার সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করবেন। এভাবে আপনার ভেতর নিরাশার বীজ বুনে দিতে চাইলে মোটেও তাতে কর্ণপাত করা ঠিক হবে না। প্রতিষ্ঠানে সত্যিই যদি কোনো সমস্যা থাকে, তবে ইতিবাচক উপায়ে তা সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে হবে আপনাকে।

কর্ম ক্ষেত্রে বন্ধুবেশী শত্রু চিনে তাঁদের মোকাবিলা করার আরও কিছু উপায়...

অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এসব সহকর্মীকে পর্যবেক্ষণ করুন যাতে বড় ধরনের কোনো অঘটন ঘটানোর সুযোগ তাঁরা না পান। যৌথভাবে কোনো কাজের দায়িত্ব পেলে শুরুতেই কাজ ভাগ করে নিন। সমস্যার মুখোমুখি হলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানানোর আগে আপনার অভিযোগগুলো লিখে ফেলুন। তবে ভুলেও ব্যক্তিগত কোনো মতামত লিখতে যাবেন না। লেখা শেষে যতটা সম্ভব নিরপেক্ষভাবে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সামনে আপনার অভিযোগগুলো তুলে ধরুন।

অনেক সময় আপনার নামে নানা কুৎসা রটাতে পারে বন্ধুবেশী এসব শত্রু। আপনাকে খেপিয়ে তোলার উদ্দেশ্যেই এমনটা করবেন তাঁরা। সে ক্ষেত্রে মাথা গরম করা যাবে না। যোগাযোগও বন্ধ করা যাবে না। বিশেষ করে অনিচ্ছা সত্ত্বেও ই-মেইলে তথ্য আদান-প্রদান চালিয়ে যেতে হবে। এতে করে ভবিষ্যতে আপনাকে ফাঁদে ফেলার সুযোগ পাবেন না তাঁরা। সমস্যা খুব বেশি গুরুতর না হলে চুপচাপ থাকাটাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। তবে সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে গেলে বিষয়টি নিয়ে খোলামেলা আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে ভুল-বোঝাবুঝি অবসানের উদ্যোগ নিতে হবে আপনাকে। প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ বিষয় ভুলেও বাইরের কারও সঙ্গে ভাগাভাগি করতে যাবেন না।

 

সূত্রঃ প্রথম আলো